প্রেমে ব্যর্থ! টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা

যে কোনও মূল্যে প্রেমিকাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে হবে। তাই প্রেমিকাকে পেতে পেতে টাওয়ারে ওঠে আত্মহত্যার চেষ্টা। এদিকে হাজার হাজার মানুষের প্রেমিককে বাঁচাতে নানা ভাবে কাকুতি মিনতি।

অবশেষে প্রেমিক নেমে এসেছিলেন নিচে। একই ভাবে ভারতের লালগোলা থানার পুলিশের চেষ্টায় প্রায় ৮০ ফিট উচ্চতার মোবাইল টাওয়ার থেকে নিচে নেমে এসে সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাল কিশোর শামীম শেখ।

অবশ্য শামীমের দাবি তার সঙ্গেও বিয়ে দিতে হবে বাসন্তীকে (নাম পরিবর্তিত)। পুলিশের সেই প্রতিশ্রুতি পেয়ে তবেই মাটিতে পা রেখেছে স্থানীয় এম এন অ্যাকাডেমির নবম শ্রেণির ওই ছাত্র।

লালগোলা থানার ওসি বিপ্লব কর্মকার বলেন, “প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই ওই ছাত্র টাওয়ারে উঠেছিল। বহু চেষ্টায় ওকে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামানো সম্ভব হয়েছে। এখন বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, পড়াশোনার সুবাদে লালগোলা বাজারের এক কিশোরীর প্রেমে পড়ে শামীম। সপ্তাহ খানেক থেকে ওই কিশোরীর সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় শামীমের। ইদানিং মেয়েটি আর শামীমের সঙ্গে দেখা করছিল না। সম্ভবত প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বদলা নিতেই ওই কিশোর মেয়েটির বাড়ির পাশের একটি মোবাইল টাওয়ারের মাথায় উঠে পড়ে।স্থানীয় এক ব্যক্তির নজরে আসে বিষয়টি। তিনিই বাসিন্দাদের খবর দেন। কিছু পরে থানা থেকে পুলিশ আসে।

অন্যদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই টাওয়ারের নিচে উৎসাহিত মানুষ জটলা করে। এদিকে পুলিশ মাইকিং করে নেমে আসার অনুরোধ জানায়। ছেলের প্রতিশ্রুতি মানা হবে বলেও অনুনয় করে পুলিশ। বাড়ির আত্মীয় স্বজনের শত কাকুতি মিনতিতে অবশেষে ঘণ্টা তিনেকের অনুরোধে নিচে নেমে আসে ওই ছাত্র।

ওই ছাত্রের বাবা মুস্তাক শেখ বলেন, “ছেলের বয়স কম। কী করে বুঝব ও কাউকে ভালবেসেছে। আর সেজন্য এমন কাণ্ড করে বসবে তাও ভাবতে পারছি না।”

এদিকে মেয়ের পরিবারের তরফে এই প্রেমের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তবে এলাকার বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন টাওয়ার কোম্পানির বিরুদ্ধে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই সব টাওয়ারে নিরাপত্তা কর্মী না থাকাতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

Be the first to comment

Leave a Reply