পলাতক আসামির সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির শুনানি ৩১ অক্টোবর

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মামলায় পলাতক আসামির সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির ওপর শুনানি আগামী ৩১ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) মামলাটির সম্পত্তি ক্রোক ও পরোয়ানা ফেরত প্রতিবেদন আসায় বিচারক পরবর্তী সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য এ দিন ধার্য করেন।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে মামলাটির বিচার চলছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ স্টেনোগ্রাফার হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান। এর আগে গত ৮ আগস্ট আটজন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে চার্জশিটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির চার্জশিটটি সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় দাখিল করেন। গত ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ জুলাই মামলাটির চার্জশিট গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। ৭ আগস্ট ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়।
চার্জশিটে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
চার্জশিটভুক্ত ৮ আসামি হলেন, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। পলাতক আসামিরা হলেন, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি ছয়জন আসামি কারাগারে আছে।
ঘটনাস্থলে মামলার ৫ আসামি নিহত হয়। তারা হলো, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো, তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

Be the first to comment

Leave a Reply