তিন বছরে এক দিনও বয়স বাড়েনি ভারতীয় ফুটবলারের

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে গত রোববার রেকর্ড গড়েছেন গৌরব মুখি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আইএসএলের ম্যাচে গোল করেছেন। বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে জামশেদপুর এফসির হয়ে গোল করেই বনে গেছেন আইএসএলের ইতিহাসের কনিষ্ঠ গোলদাতা। এমন খবরে উল্লাস নয়, বিস্ময়ধ্বনিই শোনা গেছে বেশি। কারণ, কনিষ্ঠ এই গোলদাতার বয়স নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সবাই।

উপমহাদেশে খেলাধুলায় বয়স চুরি নিত্যনতুন ঘটনা নয়। মুখি রেকর্ড গড়াতেই হয়তো ঝামেলাটা হয়েছে। কারণ, সেদিন মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়েছিলেন আইএসএলের কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের। মাঠে নামার ১০ মিনিটের মধ্যেই গড়েছেন গোলদাতার রেকর্ডও। এরপরই আইএসএল টুইট করেছে এ নিয়ে। সে টুইটের পরই ঝড় শুরু হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সবাই বলাবলি করছিল, মুখিকে দেখে ১৬ বছর বলে মনে হচ্ছে না। একটু পরই জানা গেছে, ২০১৫ সালে জাতীয় অনূর্ধ্ব–১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে ঝাড়খন্ডের হয়ে খেলেছেন মুখি। একটু পর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের করে এনেছেন সবাই।

২০১৫ সালে ভারতীয় ফুটবলের বড় এক দুর্বলতা বের করে এনেছিল অনূর্ধ্ব–১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ। সে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করিয়েছিলেন মুখি। প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাঁর ৫ গোলে গোয়াকে ৮-৩ গোলে ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল ঝাড়খন্ড। ২০১৭ অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত তখন বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় খুঁজে বেড়াচ্ছে। ঝাড়খন্ড দলের পাঁচজনকে তাই ট্রায়ালে ডেকেছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করেছিলেন, তাঁদের দেখে বয়সের চেয়ে পরিণত মনে হচ্ছে। খেলাধুলায় এ কথা দিয়ে পরিণত মস্তিষ্কের কথা বোঝানো হয়। তবে মুখিদের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই সত্য হয়ে গেল কথাটি।

ট্রায়ালের আগে প্রকাশিত হয়, মুখি ও তাঁর সতীর্থের বয়স বেশি। এ কারণে ২০১৭ বিশ্বকাপের দলে তাঁদের নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ দুই বছর পর তাঁরা অনূর্ধ্ব–১৭–এর কোটায় থাকবেন না। এ সত্য প্রকাশিত হওয়ায় ঝাড়খন্ডের শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মুখি ও অন্য চার খেলোয়াড়কে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যেহেতু ২০১৫ সালেও অনূর্ধ্ব–১৫ ফুটবলে বেশি বয়সী ছিল মুখি, তার মানে তাঁর তৎকালীন বয়স ছিল ১৬। আর তিন বছর পর আইএসএলে গোল করার পরও মুখিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১৬ বছরের কিশোর হিসেবে! তিন বছরে বয়স একদমই বাড়েনি তাঁর!

ঝাড়খন্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানিও বয়স বেশির এ দাবি সত্য মানছেন, ‘ওদের বয়স বেশ কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু যখন জাতীয় দলের ট্রায়ালে ডাকা হলো, তখন গিয়ে ওরা পরীক্ষায় ফেল করেছে। এতেই বোঝা যায়, নিম্ন পর্যায়ে বয়স পরীক্ষা কতটা বাজে। আমরা যখন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলাম, তখন ওর বয়স ছিল ১৫ (পরে যেটা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে)। সে যুক্তিতে মুখির বয়স এখন ১৮।’ কিন্তু আইএসএলের আয়োজক কমিটির দাবি অনুযায়ী মুখির বয়স তাহলে কীভাবে ১৬ হলো, এ প্রশ্নের উত্তরে রব্বানির সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমি জানি না কীভাবে!’

ভারতের এ হাস্যকর ঘটনা থেকে পুরো উপমহাদেশেরই হয়তো শিক্ষা নেওয়া দরকার। কারণ, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তুলনামূলক ভালো করা খেলোয়াড়দের পরে ব্যর্থ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে বয়স চুরির কথাটাই বেশি শোনা যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply