কোনো প্রতিদ্বন্দিতা ছাড়ায় হারলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশের দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে হেসে-খেলে জিতল উইন্ডিজ। ১০ ওভারেই লক্ষ্য অতিক্রম করে তারা। এর মধ্যে প্রথম ৫ ওভারেই তারা করে ১ উইকেটে ৭৩ রান।

ওপেনার শাই হোপ আর এভিন লুইস মিলে ঝড়ো শুরু করেন জবাবে। চতুর্থ ওভারে সাইফের ওভারে প্রথম বলে ছক্কা মেরেছিলেন লুইস। পরের বলেও উঠিয়ে মারতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন ১৮ রান করে।
তাতেও ক্যারিবীয়দের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানো যায়নি। অপরপ্রান্তে ঠিকই মেরে খেলেন ওয়ানডেতে মাথা ব্যথার কারণ শাই হোপ। মাত্র ২৩ বলে ৫৫ করে মাহমুদুল্লাহ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে ভিত্তিটা করে দিয়েই যান। এরপর পুরানের ২৩ আর পলের ২৮ রান রানে ৮ উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় পেয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।
এর আগে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। তবে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করলেন টাইগার অধিনায়ক। সাকিবের ব্যাটিংয় দৃঢ়তায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৩ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করে আউট হন সাকিব।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ক্যারিবীয় পেসারদের তোপের মুখে ৩১ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল-লিটন দাস এবং সৌম্য সরকারকে হারিয়ে রীতিমত ধুঁকছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
ক্যারিবীয় বোলাররা যখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধ্বংসস্তূপ তৈরি করলেন, তখন সেখানে বীরের মত লড়াই করলেন একা অধিনায়ক সাকিব। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয় বোলারদের উইকেটের চারপাশে খেলেছেন তিনি। ফলে তার ব্যাটে ৪৩ বল থেকে ৮টি বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কার মার বেরিয়ে আসে।
৩১ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু খুব বেশি দুর যেতে পারেননি। দুর্ভাগ্যক্রমে রানআউট হয়ে গেলেন মুশফিকুর রহীম। ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে অন সাইডে ঠেলে দিয়েই একটি দ্রুত রান নেয়ার চেষ্টা করেন মুশফিক। কিন্তু রোভম্যান পাওয়েল বলটা ধরে সরাসরি থ্রো করলে সেটা উইকেটে আঘাত হানে এবং আউট হয়ে যান মুশফিক।
মুশফিক আউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন সাকিব। তবে তারাও বেশি দুর এগুতে পারলেন না। মাত্র ২৫ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হলেন। ১৯ বলে ১২ রান করে আউট হন কটরেলে বলে সাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর আরিফুল হককে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন সাকিব। যদিও আরিফুল ছিলেন কিছুটা স্লো। ১৮ বল খেলে তিনি করেন ১৭ রান। তবুও এই জুটি বাংলাদেশকে ১০০ পার করে দেয়।
১৮তম ওভারে ক্যারিবীয়দের আজকের দিনের সেরা বোলার শেলডন কটরেলের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন সাকিব। তিনি ছাড়া বাংলাদেশ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান। করেছেন আরিফুল হক, ১৮ বল খেলে।
আরিফুল আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন সাইফউদ্দিন। শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের খ্যাতি আছে যার। কিন্তু ২ বল খেলে মাত্র ১ রান করেই বিদায় নিতে হলো তাকে। কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের বলে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন সাইফউদ্দিন।
সাইফউদ্দিন আউট হওয়ার পর সাকিব আল হাসানও ফিরে গেলেন দ্রুত। দলীয় ১২২ রানের মাথায় কটরেলকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাকিব। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ বল খেলে কিমো পলের বলে উইকেটের পেছনে সাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। মোস্তাফিজুর রহমান কিমো পলের বলে বোল্ড হয়ে গেলে, ১ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ, আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহদি হাসান, আবু হায়দার রনি, মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: শাই হোপ, এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ার, ড্যারেন ব্রাভো, নিকোলাস পুরান (উইকেটরক্ষক), রোভম্যান পাওয়েল, কার্লোস ব্রাথওয়েইট (অধিনায়ক), ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কেমো পল, শেলডন কোটরেল, ওশানে টমাস

Be the first to comment

Leave a Reply